টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) গত ২৩ এপ্রিল এশিয়া মহাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং ২০২৬ প্রকাশ করেছে, যেখানে এশিয়ার ৩৬টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ৯২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। ১৮টি কর্মক্ষমতা সূচকের ভিত্তিতে তৈরি এই র্যাঙ্কিংয়ে গবেষণা, শিক্ষাদান, জ্ঞান বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এবারের তালিকায় চীন তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। এই তালিকায় চীনের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় (৯৩.৬ স্কোর) প্রথম এবং পিকিং ইউনিভার্সিটি (৯৩.১ স্কোর) দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সেরা দশের মধ্যে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (৯১.১ স্কোর) তৃতীয়, নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি ও জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
এশিয়া মহাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইউনিভার্সিটি অব হংকং ষষ্ঠ, চীনের ফুদান ইউনিভার্সিটি সপ্তম, জিঝিয়াং ইউনিভার্সিটি অষ্টম, সাংহাই জিয়াও টাং ইউনিভার্সিটি নবম এবং দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং দশম স্থানে রয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধকবলিত দরিদ্র দেশ ইয়েমেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো এই নতুন তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা এশিয়ার শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এশিয়া মহাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশভিত্তিক হিসাবে সর্বোচ্চ ১৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতের নাম। ভারতের দেশ সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (৬৫.১ স্কোর) এশিয়ার সেরা ১০০-এ ৪৩তম স্থানে রয়েছে। এছাড়া, দেশটির সাভিতা ইনিস্টিটিউট অন মেডিক্যাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল সায়েন্সস (৫২ স্কোর) ১২৮তম স্থানে রয়েছে।
মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যার বিচারে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ১৪৩টি, তুরস্কের ১৩৭টি, ইরানের ১০১টি, ইরাকের ৯০টি, তাইওয়ানের ৪৯টি, দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩টি, সৌদি আরবের ৩৪টি, ইন্দোনেশিয়ার ৬৫টি, মালয়েশিয়ার ৩৪টি, ভিয়েতনাম ১১টি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৫টি এবং সিঙ্গাপুরের ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্থান পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলস (৬৭.৯ স্কোর) ৩২তম, ইরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ৭৬তম এবং তুরস্কের Koç University ৭৩তম স্থানে রয়েছে। আবার ইউনাইটেড আরব আমিরাত ইউনিভার্সিটি (৬৪.১ স্কোর) ৫৫তম স্থানে এবং কাতার ইউনিভার্সিটি (৬৪.৭ স্কোর) ৪৭তম স্থানে রয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের মোট ৯৯টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকাভুক্ত হয়েছে (যার মধ্যে ৪৮টি আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাঙ্কড), বাংলাদেশের ২৮টি, শ্রীলঙ্কার ৯টি, নেপালের ১টি ও আফগানিস্তানের ১টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৩৮.৩–৪০.১ স্কোর) যৌথভাবে ৩০১–৩৫০তম স্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের কায়েদ ই আযম ইউনিভার্সিটি (৫০.১ স্কোর) ১৪৮তম, নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি (১৪.৭–২৩.২ স্কোর) ৮০১+তম এবং শ্রীলঙ্কার ইউনিভার্টি অব কলম্বো (৩০.৯–৩৩.৬ স্কোর) ৫০১–৬০০তম স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া, আফগানিস্তানের কাবুল ইউনিভার্সিটিকে (রিপোর্টেড) তালিকায় দেখানো হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৬ এশিয়া মহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার এক উজ্জ্বল ও বৈচিত্র্যময় চিত্র প্রকাশ করেছে। চীন, সিঙ্গাপুর, জাপানের মতো দেশগুলোর ধারাবাহিক সাফল্য যেমন গর্বের, তেমনি মালয়েশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও অগ্রগতিকে দেশগুলোর জন্য এক ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখা হয়।
লেখা: সিরাজুর রহমান

