দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মেইন ব্যাটল ট্যাংককে চারটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়। বর্তমানে আধুনিক ট্যাংক শুধু একটি সাঁজোয়া যান নয়, বরং এখনও প্রতিরক্ষা ও আক্রমণে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্স সিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে অনেকে ভেবেছিলেন হাইপারসনিক মিসাইল, ড্রোন, এফপিভি, স্যাটেলাইট ও সাইবার অস্ত্রের কারণে ট্যাংকের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে, কিন্তু বাস্তবে দেশগুলো আরও উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী আর্মোর ও সেন্সর সংযোজন করে নতুন প্রজন্মের মেইন ব্যাটল ট্যাংককে আরও আধুনিক করে তৈরি করছে।
বর্তমানে রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও উত্তর কোরিয়া চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাংক তৈরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন Abrams, ব্রিটিশ Challenger, ইসরাইলি Merkava, জার্মান Leopard 2 ও রাশিয়ান T-90 এর মতো তৃতীয় প্রজন্মের ট্যাংকগুলো আধুনিকায়ন, উন্নত ফায়ার পাওয়ার ও প্রযুক্তির মাধ্যমে এখনও কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
Type-10 ট্যাংক: জাপান
জাপানের Type-10 ট্যাংক ২০১২ সালে প্রথম বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়, যা হালকা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল এবং বর্তমানে প্রায় ১৪০–১৫০ ইউনিট সার্ভিসে আছে। এর প্রতিটি ইউনিট কস্ট হতে পারে প্রায় ১১.৩ মিলিয়ন ডলার।
K2 Black Panther: দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার K2 Black Panther প্রথম ২০১৪ সালে সার্ভিসে আসে, এতে উন্নত APS ও অটোলোডার সিস্টেম রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের হিসেব অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়া ও পোল্যান্ড মিলিয়ে প্রায় ৪০০টির অধিক ইউনিট ব্যবহার করছে। এছাড়া, বর্তমানে প্রতিটি K2 Black Panther MBT উৎপাদন ব্যয় হতে পারে প্রায় ১০-১১ মিলিয়ন ডলার।
T-14 Armata: রাশিয়া
রাশিয়ার তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের T-14 Armata প্রথম ২০১৫ সালে প্রদর্শিত হয়। এতে উন্নত ফিচার হিসেবে সুরক্ষিত ক্রু ক্যাপসুল/কেবিন ও AI সেন্সর রয়েছে, তবে সীমিত উৎপাদনের কারণে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৬–২০ ইউনিট সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। রাশিয়ার দেয়া তথ্যমতে, প্রতিটি T-14 Armata MBT এর মূল্য হতে পারে প্রায় ৫-৭ মিলিয়ন ডলার।
Altay: তুরস্ক
তুরস্ক তার উচ্চাভিলাষী Altay মেইন ব্যাটল ট্যাংক প্রকল্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় শুরু করে ২০১০ সালে। ২০২৩ সালে এর প্রথম ব্যাচে কিছু সংখ্যক ইউনিট সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এর বেশকিছু ইউনিট সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হলেও ভবিষ্যতে মোট প্রায় এক হাজার ইউনিট Altay মেইন ব্যাটল ট্যাংক তৈরির পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। এর প্রতিটি ইউনিটের আনুমানিক দাম হতে পারে প্রায় ১১.৭৫–১৩.৫০ মিলিয়ন ডলার।
উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রজন্মের MBT প্রজেক্ট
এদিকে পূর্ব এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশ উত্তর কোরিয়া গত ২০২০ সালে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির নতুন একটি ট্যাংক প্রদর্শন করে, যা এখন Chonma-20 নামে পরিচিত। এটি কিছুটা রাশিয়ার Armata T-14 MBT এর মতো ডিজাইন মনে হলেও এতে উন্নত সেন্সর ও অটোমেটেড গান যুক্ত করা হয়েছে, যদিও উত্তর কোরিয়ার তরফে এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সবশেষে বলা যায়, হাইপারসনিক মিসাইল, ড্রোন ও AI ডিফেন্স সিস্টেমের যুগেও চতুর্থ প্রজন্মের মেইন ব্যাটল ট্যাংক প্রতিরক্ষা কৌশল ও ভূরাজনীতিতে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, উন্নত ফায়ার পাওয়ার, শক্তিশালী আর্মর, জিপিএস সিস্টেম, এবং উচ্চ প্রযুক্তির সেন্সর সংযোজনের মাধ্যমে এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে এক নতুন যূগের সূচনা করেছে।

