প্রধান খবর

পানির বোতল নিষেধাজ্ঞায় চাপের মুখে ফিফা

উচ্চমূল্যের টিকিট, যাতায়াত ও আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ ছিল আগেই। এবার খাওয়ার পানি নিয়েও ফিফা ব্যবসায়িক মনোভাব দেখাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠতেই বিশ্বকাপ আয়োজকদের সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বকাপ ভেন্যুতে দর্শকদের পানির বোতল নিয়ে প্রবেশে নাটকীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ফিফা, যা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফিফা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ম্যাচে দর্শকরা একটি নরম প্লাস্টিকের বোতল সঙ্গে আনতে পারবেন। বোতলটি অবশ্যই ২০ আউন্স (৫৯০ মিলিলিটার) ধারণক্ষমতার, সিল করা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ, উত্তর আমেরিকার ১৬টি স্টেডিয়ামে পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফিফা।

সমর্থক গোষ্ঠী এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র সমালোচনার পরই এই পরিবর্তন আসে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যেসব শহরে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, তার বেশিরভাগ জায়গায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পানির বোতল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে সমর্থকরা দেখেছিলেন “অর্থ উপার্জনের কৌশল” হিসেবে। ইংল্যান্ডভিত্তিক সমর্থক সংগঠন ফ্রি লায়ন্স এক বিবৃতিতে জানায়, সিদ্ধান্তটি ছিল “স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টা”।

বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামে পানি, কোমল পানীয় ও জুস সরবরাহ করবে দীর্ঘদিনের ফিফা স্পন্সর কোকা-কোলা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ফিফার আগের সিদ্ধান্তকে “ভুল” বলে মন্তব্য করেন এবং এটিকে সরাসরি “অর্থ উপার্জনের ব্যাপার” হিসেবে আখ্যা দেন।

সমালোচনার চাপ, তাপমাত্রার ঝুঁকি এবং সমর্থকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ফিফা শেষ পর্যন্ত নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। তবে সমর্থকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *