মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৬ জন বরেণ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে “স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা” পদকে ভূষিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। শিক্ষা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ বছর গীতিকবিতায় বিশেষ সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখায় এই মর্যাদাপূর্ণ পদক অর্জন করেছেন সিডনি প্রবাসী বিশিষ্ট প্রকৌশলী, লেখক ও সংগীতশিল্পী ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন কেবল একজন সফল প্রকৌশলীই নন, বরং তিনি একাধারে একজন শক্তিমান গীতিকার, সুরকার, সংগীতশিল্পী এবং জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপক। দীর্ঘ প্রবাস জীবনেও তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি রেডিও এফএম ৮৮.৯ এবং বিশ্বখ্যাত বেতার সংস্থা এসবিএস (SBS)-এর বাংলা বিভাগে তার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার উপস্থাপনা ও সৃজনশীল লেখনী প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিতে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তার রচিত জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে— “তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে”, “এই মুখরিত জীবনের চলার পথে”, “ভুলে গেছ তুমি” এবং “ওরে ছোট্টবেলার সাথী”। এই গানগুলো আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এছাড়া ২০১৬ সালে প্রকাশিত তার একক অ্যালবাম “তোমার জন্য” শ্রোতামহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল।
প্রবাসে থাকলেও নিজের শেকড় ও জন্মভূমি চট্টগ্রামের প্রতি ড. মামুনের রয়েছে গভীর টান। চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ‘জলাবদ্ধতা’ সমস্যার সমাধানে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি এই সমস্যা নিরসনে দুটি কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বীর প্রসবিনী চট্টগ্রাম নগরী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
পেশাগত জীবনে প্রকৌশলী হিসেবে সফলতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রকৌশলী সংগঠন ও প্রবাসী সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান করছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এই স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা তার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সাধনা এবং দেশের প্রতি অকৃত্রিম দায়বদ্ধতারই এক আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সিডনি প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের স্বীকৃতি প্রবাসে থাকা সৃজনশীল মানুষদের দেশের জন্য কাজ করতে আরও উৎসাহিত করবে।

