বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও বর্ণিল আবহে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন সেখানে অধ্যায়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বিদেশের মাটিতে দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এই অনন্য আয়োজনকে সম্মান জানিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার (২৯ মে) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই প্রামাণ্যচিত্রটি উন্মোচন করা হয়। ‘Bangladeshi students at Oxford celebrate Eid’ (অক্সফোর্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঈদ উদযাপন) শিরোনামের এই ভিডিওটিতে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ভিডিওচিত্রটিতে দেখা যায়, চিরচেনা বাঙালি পোশাক শাড়ি, পাঞ্জাবি ও নানা ঐতিহ্যবাহী সাজে সেজেছেন শিক্ষার্থীরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও মনোরম প্রাঙ্গণগুলোতে তারা দলবেঁধে সমবেত হয়েছেন। কেউ মেতে উঠেছেন চিরসবুজ আড্ডায়, কেউবা ফ্রেমবন্দি করছেন বিশেষ মুহূর্তগুলো। সুদূর প্রবাসে থেকেও নিজ দেশের উৎসব-সংস্কৃতির এই প্রাণবন্ত প্রতিফলন এক টুকরো বাংলাদেশকে যেন নিয়ে এসেছিল অক্সফোর্ডের চত্বরে।
ডকুমেন্টারিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জানান, প্রবাস জীবনে ঈদ কেবল একটি ধর্মীয় আচার বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি তাদের কাছে নিজেদের শিকড়, ভাষা এবং জাতীয় সংস্কৃতিকে নতুন করে স্মরণ করার এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি অন্যতম মাধ্যম। এ কারণেই তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঈদের প্রস্তুতি নেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের দিকগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ঈদের দিনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন পোশাক পরিধান, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং উৎসবকে ঘিরে স্মৃতিময় মুহূর্ত তৈরি করার যে চিরন্তন বাঙালি রীতি, তা আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অক্সফোর্ডের মতো একটি বিশ্বখ্যাত প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঈদ উদযাপনের এই চিত্র প্রদর্শিত হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের সাধারণ নাগরিকরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গর্বের বলে অভিহিত করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত থেকেও নতুন প্রজন্মের এই শিক্ষার্থীরা যেভাবে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন এবং বিশ্বমঞ্চে তা গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই নিজস্ব উদ্যোগে ঈদসহ নানা জাতীয় উৎসব উদযাপন করে থাকেন। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনকে এভাবে তুলে ধরা, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

