ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মো. নুরুল আমিন (৪৪) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দিল্লি গিয়ে তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হাইমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে লাগা ওই আগুনে দুটি বাংলাদেশি পরিবার বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দুটি নয়াদিল্লির নিকটবর্তী ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসে সংশ্লিষ্ট হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দেশের মোট ২১ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশের মো. নুরুল আমিন অন্যতম। বর্তমানে বাংলাদেশ হাইকমিশন নিহতের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও আটজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে হাইকমিশন জানায়, আহত আটজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার বৃহস্পতিবার সকালে ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সব বাংলাদেশি নাগরিককে দেখতে যান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে আলোচনা করেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
এই বহুজাতিক ট্র্যাজেডিতে বাংলাদেশি ছাড়াও বিপুলসংখ্যক বিদেশি ও স্থানীয় নাগরিক হতাহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে মোজাম্বিকের ২ জন, লাইবেরিয়ার ১ জন, নাইজেরিয়ার ৪ জন এবং উজবেকিস্তানের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে আহতদের তালিকায় নেপাল, ক্যামেরুন, কেনিয়া ও কিরগিজস্তানের ২ জন করে, লাইবেরিয়ার ৩ জন, নাইজেরিয়ার ১ জন এবং কাজাখস্তানের ৩ জন নাগরিক রয়েছেন। সব মিলিয়ে এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ২১ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

