প্রধান খবর

রেমিট্যান্স আয়ের প্রবৃদ্ধতিতে স্থিতিশীল হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি!

চলমান বৈশ্বিক সংঘাত এবং জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার মুখেও বর্তমানে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্যমতে, আজ ২২ এপ্রিল বুধবার পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৩৩ কোটি ২০ লক্ষ ডলার বা প্রায় ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার। যেখানে গত মার্চ মাসে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন সম্মানিত প্রবাসী কর্মীরা। (তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার ও সময় নিউজ)

উল্লেখ্য যে, চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩.০২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)-এর তথ্যমতে গত ২০২৫ সালের ১২ মাসে বৈধ পথে মোট রেমিট্যান্স আয় হয় ৩২.৮২ বিলিয়ন ডলার। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি মোকাবিলা এবং ফরেক্স রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক ও গুরিত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয় করে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। দ্য ইকনোমিক টাইমস এর দেয়া তথ্যমতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স প্রবাহ গত ২০২৫ অর্থবছরে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৫.৪৬ বিলিয়ন ডলার এবং তা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। বর্তমানে ভারতের রেমিট্যান্স আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আমেরিকা।

তাছাড়া বর্তমানে রেমিট্যান্স আয়ের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেস পাকিস্তান গত ২০২৫ অর্থবছরে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত ২০২৫ অর্থবছরের ১২ মাসে মোট রেমিট্যান্স আয় হয় ৩৮.৩ বিলিয়ন ডলার এবং যা গত ২০২৪ অর্থবছর অপেক্ষা প্রায় ২৬.৬% বেশি। যেখানে গত ২০২৪ অর্থবছরে পাকিস্তান মোট রেমিট্যান্স আয় করে ৩০.৩ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে The Global Economy ওয়েবসাইটের দেয়া তথ্যমতে, গত ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে ভারত ১৩৭.৬৭ বিলিয়ন ডলার, ম্যাক্সিকো ৬৭.৬৪ বিলিয়ন ডলার, ফিলিপাইন্স ৪০.২৮ বিলিয়ন ডলার, ফ্রান্স ৩৬.৮৬ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তান ৩৪.৯১ বিলিয়ন ডলার, চীন ৩১.৪১ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশ ২৭.১২২ বিলিয়ন ডলার, গুয়েতেমালা ২১.৬৫ বিলিয়ন ডলার এবং নাইজেরিয়া ২১.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আয় করে।

পরিশেষে বলা যায় যে, একবিংশ শতাব্দির এই আধুনিক যুগে এসেও বিশ্বের অধিকাংশ স্বল্প আয়ের দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের (আমদানি-রপ্তানি) ঘাটতি মোকাবিলায় সম্মানিত প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আয় এখনো অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাছাড়া, দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করতেও রেমিট্যান্স আয় প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *