বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে নীরবে বাড়ছে উচ্চ কোলেস্টেরল। এটি এমন একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা প্রাথমিকভাবে তেমন লক্ষণ না দেখালেও ধীরে ধীরে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ধমনিতে চর্বি জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোক-এর ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু শারীরিক লক্ষণের মাধ্যমে আগেই সতর্ক হওয়া সম্ভব। নিচে এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি:
হাঁটার সময় কিংবা বিশ্রামেও পায়ে ভারি ভাব বা হঠাৎ খিঁচুনি অনুভূত হলে তা রক্তপ্রবাহে সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
বুকে চাপ বা ব্যথা:
ধমনিতে চর্বি জমে গেলে বুকের মাঝখানে চাপ, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এটি কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাক-এর পূর্বাভাসও হতে পারে।
গলা, চোয়াল বা কাঁধে অস্বস্তি:
রক্ত চলাচল কমে গেলে শরীরের উপরের অংশে বিশেষ করে গলা, চোয়াল বা কাঁধে অস্বাভাবিক ব্যথা দেখা দিতে পারে।
হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা:
হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা বা ঠান্ডা অনুভূতি কোলেস্টেরল বৃদ্ধির একটি সাধারণ লক্ষণ। অনেক সময় পায়ে নীলচে ভাব বা দ্রুত ক্লান্তিও দেখা যায়।
চোখের চারপাশে হলুদ দাগ:
চোখের চারপাশে হলদেটে স্তর বা বলয় তৈরি হওয়া শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমার সরাসরি ইঙ্গিত বহন করে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

