লেবাননে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন সীমান্ত শহরে ইসরায়েলের অব্যাহত গোলাবর্ষণ ও ড্রোন নজরদারি এই শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পরপরই দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন শহরে ভারী গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কামানের গোলার পাশাপাশি ওই এলাকায় মেশিনগানের গুলিবর্ষণ ও ব্যাপক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া পশ্চিম বেকা উপত্যকা, রাশায়া অঞ্চল এবং জাবাল আল-শাইখের আকাশে ইসরায়েলি নজরদারি বিমানের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ১০ দিনের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন, যা শুক্রবার ভোর (বাংলাদেশ সময়) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরেই তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শেহাদে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশ মনে করছে ট্রাম্পের প্রশাসনের চাপের মুখেই তেল আবিব এই চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে। হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নির্মূল করার আগে এই ধরণের বিরতি ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে বলে দেশটির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো মনে করছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২,১৯৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭,১৮৫ জনেরও বেশি মানুষ। এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা থাকলেও প্রথম ঘণ্টার হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, যদি এই হামলা অব্যাহত থাকে তবে ট্রাম্পের এই শান্তি উদ্যোগ শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়বে।

