দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি ‘কাঙ্ক্ষিত’ শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করার আভাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে তা স্বাক্ষরের জন্য তিনি পাকিস্তান সফর করতে পারেন।
লাস ভেগাস সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার আগে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে ওঠার মুহূর্তে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছি।” চুক্তিটি স্বাক্ষরের ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তান নির্বাচিত হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, আমি সেখানে যেতে পারি। যদি ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তবে আমি অবশ্যই সেখানে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করব।”
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহান্তেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। যদিও সেই প্রথম দফার বৈঠক থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি, তবে হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে যে আলোচনার ধারা বজায় রাখতে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জোর প্রস্তুতি চলছে।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করছে। যদি দ্বিতীয় দফার আলোচনা সফল হয়, তবে কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হবে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতির জন্য সবচেয়ে প্রভাবশালী কূটনৈতিক বিজয়।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

