ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আরেক বন্ধু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে উপজেলার কাঠেরপুল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্য এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নৃশংস এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
নিহত আনোয়ার হোসেন (২২) উপজেলার রানিয়ারা বিষ্ণুপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন একই এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত আনোয়ার ও অভিযুক্ত সাব্বির দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এশার নামাজের সময় স্থানীয় একটি সেলুনে এক যুবককে মারধর করার ঘটনা ঘটে। সে সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। এই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বন্ধু সাব্বিরের সঙ্গে আনোয়ারের তীব্র কথা কাটাকাটি ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। নিহতের বাবা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে আনোয়ার একটি অটোরিকশাযোয় যাওয়ার সময় সাব্বির ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকে ও শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ও অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে সৌদি প্রবাসী ছিল। সম্প্রতি দেশে এসে নিজের পায়ে দাঁড়াতে একটি খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছিল। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন আনোয়ারকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক মেশকাতুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বন্ধুর হাতেই বন্ধু খুন হয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

