প্রধান খবর

আল-আকসায় পুনরায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ 

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে পুনরায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহেই পবিত্র এই স্থানটি মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তবে শান্তির সেই আবহে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে বৃহস্পতিবারের (১৬ এপ্রিল) এই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’-র বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েক ডজন কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ইসরায়েলি পুলিশের কড়া পাহারায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীরা ‘ডোম অব দ্য রক’-এর নিকটবর্তী স্থানে গিয়ে উসকানিমূলক ‘তালমুদিক’ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। সেখানে উপস্থিত ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালে ইসরায়েলি পুলিশ তাঁদের বাধা দেয় এবং বসতিস্থাপনকারীদের বেষ্টনী দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

জেরুজালেম গভর্নরেট এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, পবিত্র এই স্থানে ধর্মীয় উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত রোববার ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর আল-আকসা পরিদর্শনে গিয়ে ইহুদিদের জন্য আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। ২০২৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ নিয়ে অন্তত ১৫ বার তিনি বিতর্কিতভাবে এই প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন, যা ফিলিস্তিনি ও মুসলিম বিশ্বের ক্ষোভকে উসকে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন এবং ১৯৬৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদের প্রশাসনিক তদারকির দায়িত্ব জর্ডানের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত। এই চুক্তি অনুযায়ী অমুসলিমরা আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারলেও সেখানে তাদের প্রার্থনা করার কোনো আইনি অধিকার নেই। কিন্তু ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে এই আইন লঙ্ঘন করে বসতিস্থাপনকারীদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করে আসছে জর্ডান ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা চলছে, তখন আল-আকসায় এমন অনুপ্রবেশ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে। ওআইসি (OIC) সহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *