প্রাণ দিয়ে শত মানুষ বাঁচালেন আবদুল্লাহ

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহকে ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। তার সাহসিকতার কারণেই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ এ হামলায় আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নিহত হন। হামলার পর দুই কিশোর হামলাকারী আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথে পৌঁছালে আমিন আবদুল্লাহ তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হলেও মৃত্যুর আগে জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা চালু করেন।

পুলিশের তথ্যমতে, ওই লকডাউনের ফলে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে থাকা স্কুলের প্রায় ১৪০ শিশুসহ বহু মানুষের জীবন রক্ষা পায়। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, আমিন আবদুল্লাহর কর্মকাণ্ড ছিল অসাধারণ বীরত্বপূর্ণ এবং তিনি বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

নিহত অপর দুই মুসল্লির নাম মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, আমিন আবদুল্লাহ দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি অত্যন্ত সদালাপী ও মানবিক ব্যক্তি ছিলেন।

এ ঘটনায় পুলিশ ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত চালাচ্ছে। সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক নথি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সহায়তায় ইতোমধ্যে অনলাইনে প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *