প্রধান খবর

পিএসএলে নাহিদ রানার গতির ঝড়, বিমোহিত কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সবশেষ আসরে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ গতিলোক নাহিদ রানা। পেশোয়ার জালমির হয়ে নিজের দ্বিতীয় আসরে খেলতে নেমে এবার রীতিমতো বিশ্বমঞ্চে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই পেসার। গত মৌসুমে মাত্র এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও এবার তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ট্রাম্পকার্ড। বিশেষ করে আসরের ফাইনালে ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি।

টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় দলের হয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজে অংশ নিতে দেশে ফিরতে হলেও ফাইনালের গুরুত্ব বুঝে বিসিবির অনুমতিতে তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় পেশোয়ার কর্তৃপক্ষ। আর আস্থার প্রতিদান দিতে একটুও ভুল করেননি নাহিদ। আসরে মাত্র ৫ ম্যাচ খেলে ৯টি উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে তার ইকোনমি রেট ছিল ঈর্ষণীয়- মাত্র ৫.৪৪। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটারের আশেপাশে গতি তুলে ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলেছেন এই বাংলাদেশি সেনসেশন।

নাহিদের এমন বিধ্বংসী বোলিং আর গতি দেখে মুগ্ধতা লুকাতে পারেননি পাকিস্তান তথা বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে নাহিদের প্রশংসা করে আকরাম বলেন, গতি বলতে আসলে যা বোঝায়, নাহিদ ঠিক তাই। ১৪৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে তার দৌড়ানোর ভঙ্গি এবং অত্যন্ত সহজ বোলিং অ্যাকশন দেখে মুগ্ধ হতে হয়। সুলতান অব সুইংয়ের মতে, জটিলতা মুক্ত বোলিং স্টাইল আর গতির সমন্বয়ে নাহিদ রানার সামনে অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

কেবল গতি নয়, নাহিদ রানার ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তাও নজর কেড়েছে বোদ্ধাদের। ফাইনাল ম্যাচে হুনাইন শাহকে ১৪৮ কিলোমিটার গতির এক মরণকামড় দেওয়া ইয়র্কারে বোল্ড করার আগে ফিল্ডিং পজিশন বদলে ব্যাটারকে ধোঁকায় ফেলেছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল শর্ট বল করবেন, কিন্তু দিলেন নিখুঁত ইয়র্কার। গতির সাথে এই মগজাস্ত্রের ব্যবহার দেখে ওয়াসিম আকরাম উচ্চকণ্ঠ প্রশংসা করেছেন। গতির রাজপুত্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়া নাহিদ রানা যে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বড় এক সম্পদে পরিণত হচ্ছেন, তা এখন দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *