চীন সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দেশটির কোমাক (COMAC) কোম্পানির তৈরি একটি C909 যাত্রীবাহী বিমানকে আধুনিক চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল প্রযুক্তি দ্বারা সজ্জিত করে আকাশে উড্ডয়নরত এক ভ্রাম্যমাণ অপারেশন থিয়েটারে পরিণত করা হয়েছে।
এই হালকা C909 যাত্রী পরিবহন বিমানের আসন সরিয়ে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির সার্জিক্যাল মাইক্রোস্কোপ, স্টেরাইল ওয়ার্কস্টেশন ও উন্নত মানের মনিটর। বিমানের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটারে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
চীনের এই ‘ফ্লাইং হসপিটাল’ প্রকল্পে শুধু COMAC একা নয়, বরং মূল অংশীদার হিসেবে রয়েছে ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ই আই অ্যান্ড ইএনটি হাসপাতাল, চায়না ফ্লাইং ড্রাগন জেনারেল এভিয়েশন এবং ঝোংশান আই সেন্টার। এই তিন সংস্থা প্রযুক্তি সরবরাহ, সমন্বয় ও শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিমানটিকে উন্নত চিকিৎসা সেবার উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
এই ফ্লাইং হসপিটালে ইতিমধ্যেই চোখের রোগের বেশকিছু অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া, চীনের অনেক প্রত্যন্ত গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে এই প্রজেক্ট নিয়ে আশাবাদী চীন।
আর চীনের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমানে এই ‘ফ্লাইং হসপিটাল’ এখন আর শুধু দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অদূর ভবিষ্যতে বিদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটি।
এর পাশাপাশি স্থানীয় চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী উন্নত চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করে চীন।

