সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চিরচেনা সৌরজগতের ভেতর এক অতি আশ্চর্যজনক আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু শনাক্ত করেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। মূলত সৌরজগতে ঢুকে পড়া এই রহস্যময় ধূমকেতু খ্যাত বস্তুটির নাম দেওয়া হয়েছে 3I/ATLAS।
এটি প্রথম শনাক্ত করা হয় ২০২৫ সালের ১ জুলাই। এটি আবিষ্কার করে ATLAS (Asteroid Terrestrial-impact Last Alert System) নামের একটি মহাকাশ জরিপ টেলিস্কোপ, যা চিলির রিও উর্তাদো এলাকায় স্থাপন করা হয়।
এর আগে ২১ জুন, ২০২৫-এ রুবিন অবজারভেটরি এটির বেশকিছু ছবি তুলেছিল, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত আবিষ্কারের ঘোষণা আসে ১ জুলাই ২০২৫। এটিকে সৌরজগতে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এটি গত ১৬ মার্চ ২০২৬-এ বৃহস্পতি গ্রহের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এখন, এপ্রিল ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহে এসে, এটি সম্ভবত শনির কক্ষপথ অতিক্রম করে সৌরজগৎ ছেড়ে অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
নতুন গবেষণা অনুযায়ী, 3I/ATLAS-এর কক্ষপথ ছিল হাইপারবোলিক, অর্থাৎ সূর্যের চারপাশে বাঁধা নয়। NASA-এর পর্যবেক্ষণে এতে জৈব অণু, পানি বরফ ও ধূলিকণা পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে এটি প্রাকৃতিক উৎসের তৈরি। এছাড়া, ‘ব্রেকথ্রু লিসেন’ প্রকল্পের স্ক্যানে এটি থেকে নির্গত কোনো কৃত্রিম রেডিও সংকেত পাওয়া যায়নি।
তবে, হাবল টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে 3I/ATLAS-এ তিনটি সুশৃঙ্খল গ্যাসজেট দেখা যায়, যা সাধারণ ধূমকেতুর তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে সুশৃঙ্খল ও নিখুঁত ছিল। এই বিষয়টি নিয়ে এখন বিজ্ঞানীদের মধ্যে চরম কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাভি লোয়েবের মতো কিছু বিজ্ঞানী এটিকে এলিয়েন মহাকাশযান বলে সন্দেহ করছেন, কারণ এর কক্ষপথ অত্যন্ত নির্ভুল ছিল। এটি সৌরজগতের সমতলে বুধ, শুক্র, মঙ্গল ও পৃথিবীর কাছাকাছি চলে এসেছিল, যা নিছক কাকতালীয় হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৫-১০ শতাংশ হতে পারে।
বর্তমানে এটি এত দূরে পৌঁছে গেছে যে, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দিয়েও এটিকে হয়তো আর দেখা সম্ভব হবে না। তবে, যাই হোক না কেন, এক্ষেত্রে এলিয়েন মহাকাশযান ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
পরিশেষে বলা যায়, অধিকাংশ বিজ্ঞানী 3I/ATLAS-কে একটি সাধারণ ধূমকেতু বলে চূড়ান্ত মত দিলেও এর তিনটি জেটের নিখুঁত কাঠামোর রহস্যটি এখনো পর্যন্ত অমীমাংসিত রয়ে গেছে। কেউ কেউ একে আন্তঃনাক্ষত্রিক এলিয়েন স্পেসশিপ বললেও বাস্তবে এই রহস্য উন্মোচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে।
লেখা: সিরাজুর রহমান

