কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি ওয়াশিংটনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমেরিকা যেন ইরানকে ভেনেজুয়েলা ভেবে ভুল না করে; এখানে সম্পদ লুট করার কোনো সুযোগ নেই।”
ইরানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘তেহরান টাইমস’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জেনারেল আসাদি মার্কিন নীতিকে ‘সাম্রাজ্যবাদী দাদাগিরি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
জেনারেল আসাদি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি মূলত ইরান এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোর নিজস্ব জলসীমা। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে নাক গলানোর বা কোনো বিষয়ে মতামত দেওয়ার ন্যূনতম অধিকার আমেরিকার নেই। ওয়াশিংটন কৃত্রিমভাবে এই জলপথে নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা করছে, তা কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না।”
মার্কিন নেতাদের আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি অভিযোগ করেন যে, আমেরিকা মূলত এই অঞ্চলের খনিজ তেলসহ প্রাকৃতিক সম্পদগুলো নিজেদের স্বার্থে কুক্ষিগত করতে চায়। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে, ইরানের মাটিতে বা জলসীমায় সেই আগ্রাসনের চেষ্টা করলে কঠিন প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
জেনারেল আসাদির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য সামরিক অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-চলাচল বা যেকোনো ধরনের পর্যবেক্ষণমূলক তৎপরতাকে তেহরান সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাবে।

