প্রধান খবর

ইরান অবরোধে ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্য এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক আধিপত্যের এক নতুন প্রদর্শনী শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চলমান ইরান অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই বিশাল সামরিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে সরাসরি মাঠে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পেন্টাগনের পরিকল্পনায় এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা। মার্কিন রণতরিগুলো বিভিন্ন অবস্থানে থেকে ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে শনাক্ত করছে।

ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত তিনটি জাহাজে মার্কিন সেনারা তল্লাশি চালিয়েছে। এর মধ্যে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরের গভীর অংশে। সর্বশেষ বুধবার রাতে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডো অভিযানের খবর পাওয়া গেছে, যা ইরান থেকে তেল পরিবহন করছিল বলে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।

বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ১৯টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই বিশাল নৌবহরের মূল নেতৃত্বে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুটি বিমানবাহী রণতরি—ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।

এই রণতরি দুটির সুরক্ষায় এবং অভিযান পরিচালনার জন্য নিয়োজিত রয়েছে ১২টি বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার। যার মধ্যে ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস মাইকেল মারফি এবং ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টার মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজগুলো অন্যতম। এছাড়া এই বহরে যুক্ত রয়েছে ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসার মতো দ্রুতগামী কমব্যাট শিপ এবং একটি শক্তিশালী অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ।

কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, নজরদারির পরিধি বাড়াতে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলাদাভাবে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি এবং ইউএসএস ম্যাকফলের মতো যুদ্ধজাহাজ। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চাইছে যে, পারস্য উপসাগর এড়িয়ে দূরবর্তী সমুদ্রপথ ব্যবহার করেও ইরান যেন কোনো বাণিজ্যিক তৎপরতা চালাতে না পারে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর এই বিপুল উপস্থিতি কেবল একটি অবরোধ কার্যক্রম নয়, বরং এটি ওই এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখার একটি সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের পাশাপাশি এই সামরিক বেষ্টনী তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি চূড়ান্ত ধাপ। ভারত মহাসাগরের মতো দূরবর্তী স্থানে মার্কিন অভিযানের ব্যাপ্তি এটাই প্রমাণ করে যে, ওয়াশিংটন এবার ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রতিটি রন্ধ্রপথ বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *