জার্মানির রাজধানী বার্লিনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হয়েছেন ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলন শেষে ভবন থেকে বের হওয়ার সময় এক যুবক তাকে লক্ষ্য করে লাল রঙের একটি তরল নিক্ষেপ করেন। আকস্মিক এই ঘটনায় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হয়েছেন ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলন শেষে ভবন থেকে বের হওয়ার সময় এক যুবক তাকে লক্ষ্য করে লাল রঙের একটি তরল নিক্ষেপ করেন। আকস্মিক এই ঘটনায় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েনি সাফেক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি যখন বার্লিনের সভাস্থল ত্যাগ করে গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই ভিড়ের মধ্য থেকে এক যুবক তাকে লক্ষ্য করে লাল তরলটি ছুড়ে মারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছুড়ে মারা বস্তুটি ছিল টমেটো জুস বা সস। ঘটনার পরপরই উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা হামলাকারীকে জাপটে ধরেন এবং দ্রুত পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যান। নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রেজা পাহলভি অক্ষত অবস্থায় দ্রুত গাড়িতে উঠে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন।
ঘটনার কিছুক্ষণ আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি এই চুক্তিকে তেহরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি ‘লাইফলাইন’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র বিরোধিতা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোর অবস্থানের কারণেই কোনো ক্ষুব্ধ পক্ষ বা ভিন্নমতাবলম্বী তার ওপর এমন হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
রেজা পাহলভি ইরানের শেষ সম্রাট (শাহ) মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের পর তার বাবার শাসনের পতন ঘটলে রাজপরিবার দেশত্যাগে বাধ্য হয়। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাসিত জীবনে থাকা পাহলভি আজও ইরানে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এবং পাহলভি বংশের শাসন ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন। বর্তমানে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সফর করছেন মূলত প্রবাসে থাকা ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং ইরানের বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে।
রেজা পাহলভি জার্মানিতে জনসভা করলেও দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। জার্মানির কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা সরকারের প্রতিনিধির সাথে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সূচি ছিল না। এই শীতল অভ্যর্থনার মাঝেই বার্লিনের রাস্তায় এমন লাঞ্ছনাকর ঘটনা তার রাজনৈতিক প্রচারণাকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই হামলার পর ইউরোপে বসবাসরত ইরানি কমিউনিটির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে রাজতন্ত্রের সমর্থকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা বিষয়টিকে পাহলভির জনবিচ্ছিন্নতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বার্লিন পুলিশ হামলাকারীর উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

