সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ফিরে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ইউএসএস জোরাল্ড আর. ফোর্ড ক্লাস এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার (CVN-78)। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এটি সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে এটি।
আর ইউএসএস জোরাল্ড আর. ফোর্ড ক্লাস ক্যারিয়ারের সাথে রয়েছে আরও ২টি শক্তিশালী মিসাইল গাইডেড হেভি ডেস্ট্রয়ার। মোট কথা বর্তমানে একটি পরিকল্পিত ব্যাটল স্ট্রাইক গ্রুপের সাথে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে লহিত সাগরে ফিরে এসেছে এটি।
পেন্টাগনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে যাত্রা করে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করতে যাচ্ছে।
যার মধ্যে ইউএসএস জোরাল্ড আর. ফোর্ড, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জর্জ এইচ. ডাব্লিউ. বুশ। যেগুলোতে খুব সম্ভবত মোট প্রায় ২২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।
প্রায় ১২.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়বহুল এই সুপার ক্যারিয়ারকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি একক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ধরা হয়। এটি একসাথে ৭৫–৯০টি এয়ারক্রাফট বহন করতে সক্ষম। শক্তি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত দুটি A1B নিউক্লিয়ার রিএক্টর থেকে প্রায় ৩০০–৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। একবার জ্বালানি ভরলে এটি টানা ২০–২৫ বছর সমুদ্রে চলতে পারে।
বর্তমানে ইউএস নেভির হাতে রয়েছে মোট ১১টি সুপার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার। যার মধ্যে ১০টি নিমিৎজ-ক্লাস এবং ১টি ফোর্ড-ক্লাস। এর পাশাপাশি আরও রয়েছে ৯টি লাইট/হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার ও অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ, এবং বিশেষ মিশনের জন্য অন্তত ২টি অ্যাম্ফিবিয়াস কমান্ড শিপ।
পরিশেষে বলা যায় যে, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির যুগে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার শুধু সামরিক শক্তির প্রতীক নয়, বরং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিরও নিদর্শন হিসেবে টিকে রয়েছে। তবে এক আমেরিকা ব্যতীত বিশ্বের আর কোনো সামরিক শক্তিধর দেশ নিউক্লিয়ার পাওয়ারড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক ফ্লিট তৈরি করতে পারেনি।
লেখা: সিরাজুর রহমান

