প্রধান খবর

অস্ট্রেলিয়ায় যুদ্ধজাহাজ সরবরাহে জাপানের সাথে ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

আজ ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার আওতায় অস্ট্রেলিয়া জাপানের তৈরি নতুন প্রজন্মের এবং উচ্চ প্রযুক্তির মোট ১১টি ‘আপগ্রেডেড মোগামি-ক্লাস’ (Mogami-class) মাল্টি-রোল ফ্রিগেট ক্রয় করবে। এই বিশাল আকারের চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার নৌ-প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার (১০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার) মূল্যের এই ১১টি ‘আপগ্রেডেড মোগামি-ক্লাস’ মাল্টি-রোল ফ্রিগেট প্রকল্পের প্রথম ৩টি জাহাজ জাপানের মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে (MHI) নির্মিত হবে, যা চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। অন্যদিকে, পরবর্তী ৮টি ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ) প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হেন্ডারসন শিপইয়ার্ডে তৈরি করা হবে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই জাহাজগুলো বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ মোগামি ক্লাসের চেয়ে আকারে বড় এবং ওজনে ভারী হবে। এগুলোর পূর্ণ লোডেড ওজন হবে প্রায় ৬,২০০ টন। এই উন্নত সংস্করণে ৩২-সেলের ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম (ভিএলএস) যুক্ত করা হয়েছে, যা দিয়ে শক্তিশালী লং-রেঞ্জ মিসাইল নিক্ষেপ করা সম্ভব। জাহাজটির মূল বিশেষত্ব হলো এর অত্যাধুনিক স্টিলথ ডিজাইন এবং উন্নত রাডার ব্যবস্থা।

এছাড়া, এতে একটি ৩৬০-ডিগ্রি বৃত্তাকার স্ক্রিন ওয়াল রয়েছে, যা অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রুদের চারপাশের সমুদ্রের পূর্ণাঙ্গ প্যানোরামিক দৃশ্য প্রদর্শন করে। মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে নির্মিত এই অত্যাধুনিক ফ্রিগেট মাত্র ৯০ জন ক্রু দ্বারা পরিচালনা করা যায়। সমুদ্রতলের মাইন শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে সাবমেরিন বিধ্বংসী অভিযান—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটিকে অত্যন্ত কার্যকর ব্যবহারের উপযোগী করে ডিজাইন ও তৈরি করা হবে।

মূলত, ২০১৪ সালের দিকে জাপানের প্রতিরক্ষা নীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিবেচনায় পশ্চিমা বিশ্বের ইতিবাচক সমর্থনের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানের নতুন করে অস্ত্র রপ্তানির পথ সুগম হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানের অস্ত্র রপ্তানির আকার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘের COMTRADE ডাটাবেস এবং একাধিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালে জাপান সারাবিশ্বে আনুমানিক মোট প্রায় ৪২০.৪৪ মিলিয়ন ডলারের ডিফেন্স সিস্টেম রপ্তানি করেছে। তবে, এই অস্ত্র রপ্তানির বড় অংশটি ছিল নন-লেথাল (অঘাতক) সাজ সরঞ্জাম, যেমন রাডার সিস্টেম এবং উন্নত নজরদারি সরঞ্জাম।

পরিশেষে বলা যায়, এই ফ্রিগেট ক্রয় চুক্তি জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী অস্ত্রের সংমিশ্রণে তৈরি এই জাহাজগুলো যেমন অস্ট্রেলিয়ার নৌ-প্রতিরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করবে, তেমনি প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশটির নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ শিল্পকেও সমৃদ্ধ করবে। বিশেষ করে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *