প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে জিনগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত জিন সন্তানের নানা বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে বিশেষভাবে কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের জিন শিশুর বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
বিজ্ঞান অনুযায়ী, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ, যা শরীরের শক্তি উৎপাদন ও বিপাকক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিনও মায়ের দিক থেকে বেশি প্রভাবিত হতে পারে, যা শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও মায়ের প্রভাব স্পষ্ট। যেমন চুলের গঠন, ত্বকের রং, হেয়ারলাইন এমনকি কিছু শিরা-সংক্রান্ত সমস্যার প্রবণতাও মায়ের কাছ থেকে আসতে পারে। পাশাপাশি শরীরের বিপাকক্রিয়া ও ওজন বৃদ্ধির প্রবণতাও অনেকাংশে মায়ের জিনের ওপর নির্ভরশীল।
এছাড়া মেজাজ, ঘুমের ধরন এবং কিছু মানসিক প্রবণতা যেমন বিষণ্নতা বা অনিদ্রার ঝুঁকিও মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। কিছু রোগের ঝুঁকি যেমন মায়োপিয়া, ডায়াবেটিস বা চোখের সমস্যা মায়ের দিক থেকে প্রভাবিত হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
ছেলেসন্তানের ক্ষেত্রে X-লিংকড বৈশিষ্ট্য, যেমন বর্ণান্ধতা, সরাসরি মায়ের কাছ থেকেই আসার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে মেয়েদের প্রজননসংক্রান্ত বিষয় যেমন প্রথম মাসিক বা মেনোপজের সময় অনেক সময় মায়ের সঙ্গে মিল দেখা যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিনগত প্রভাবের পাশাপাশি পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সন্তানের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে জেনেটিক্সের পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যা ও সচেতনতা অপরিহার্য।

