রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে ১৮ জনই রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা ছিলেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাসটি পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। গভীর রাতে প্রায় ৯০ ফিট নিচ থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয় এবং একে একে বের করা হয় মরদেহগুলো।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৯ জন, গোয়ালন্দের ২ জন, কালুখালীর ৬ জন এবং বালিয়াকান্দির ১ জন ছিলেন। এছাড়া কুষ্টিয়ার ৪ জন, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, ঢাকা ও ঝিনাইদহ জেলার একজন করে নিহত হয়েছেন।
রাজবাড়ীর নিহতদের তালিকায় রয়েছেন রেহেনা আক্তার (৬১), জহুরা অন্তি (২৬), কাজী সাইফ (৩০), মর্জিনা আক্তার (৩২), সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ফাইজ শাহানূর (১১), তাজবিদ (৭), আরমান খান (৩১), নাজমিরা জেসমিন (৩০), লিমা আক্তার (২৬), জোস্ন্যা (৩৫), সোহা আক্তার (১১), আব্দুর রহমান (৬), সাবিত হাসান (৮), আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), উজ্জ্বল খান, আশরাফুল ইসলাম এবং মো. জাহাঙ্গীর (৫৫)।
হঠাৎ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাজবাড়ীজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারগুলোতে চলছে আহাজারি, আর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

