ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি কাঠের নৌকা থেকে ৪৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। জার্মান এনজিও জাহাজ ‘সি-আই ৫’ ও ‘কোলিব্রি ২’ বিমানের যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইতালির Vibo Valentia বন্দরে নিরাপদে নামানো হয়।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় হ্যারির প্রভাবে সাগরে তীব্র ঝড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই তারা জীবনঝুঁকি নিয়ে ইউরোপমুখী যাত্রা শুরু করেছিলেন। উদ্ধার হওয়া অনেকেই চরম শীতজনিত হাইপোথার্মিয়া, পানিশূন্যতা, স্ক্যাবিস এবং জ্বালানি ও লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে সৃষ্ট ‘ফুয়েল বার্ন’-এ ভুগছিলেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ইতালিতে পৌঁছানো ১ হাজার ৫৭২ জন অভিবাসীর মধ্যে ৪৯৮ জনই বাংলাদেশি নাগরিক যা সংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ। এতে ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসন প্রবণতায় বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এনজিও সংস্থাগুলোর অভিযোগ, উদ্ধারস্থল থেকে ৩২ ঘণ্টা দূরের বন্দরে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে অসুস্থ অভিবাসীরা যাত্রাপথে আরও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং সি-সিকনেসে আক্রান্ত হন। অন্যদিকে ভ্যাটিকান ও লিবিয়াভিত্তিক শরণার্থী সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সাম্প্রতিক ঝড়ের কারণে সাগরে আরও বহু অভিবাসী নিখোঁজ থাকতে পারেন।

