বিশ্ব চলচ্চিত্রের মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চগুলোয় প্রশংসিত হওয়ার পর এবার ওশেনিয়া মহাদেশে পা রাখছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘রইদ’। আগামী ৫ জুন থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহরের প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে গুণী নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের বহুল আলোচিত এই দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার স্বত্ব যৌথভাবে অধিগ্রহণ করেছে ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ চলচ্চিত্র পরিবেশক সংস্থা ‘স্ক্রিনএক্সকোপ’ এবং ‘দেশিইভেন্টস’।
‘হাওয়া’ খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের এই নতুন সৃষ্টিটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরব বয়ে এনেছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নেদারল্যান্ডসের ‘রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ প্রথম কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ে ‘রইদ’। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘সিয়াটল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ প্রদর্শিত হয়ে এটি বিশ্বচলচ্চিত্রের বোদ্ধা ও সমালোচকদের তুমুল প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়।
বঙ্গ ও ফেইসকার্ড প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন ‘আডেশাস অরিজিনালস’-এর অপূর্ব বক্সী। প্রাক-ডিজিটাল যুগের আবহমান গ্রামবাংলার পটভূমিতে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমার গল্প। যেখানে গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার স্তরবিন্যাস, লোকগাথা, ঐতিহ্য, মানুষের আদিম প্রবৃত্তি এবং নিয়তির এক নিপুণ কোলাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ‘সাধু’ নামের এক দরিদ্র বর্গাচাষী এবং তার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত স্ত্রী। বাস্তবধর্মী এক গ্রামীণ আখ্যানের আড়ালে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন মূলত এক গভীর প্রতীকী ও মনস্তাত্ত্বিক গল্প বুনেছেন, যা এর স্বতন্ত্র সিনেমাটিক ভাষার কারণে আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও মুগ্ধ করেছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বাজারে ‘হাওয়া’, ‘ডুব’, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এবং ‘নোনা জলের কাব্য’-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি চলচ্চিত্র সফলভাবে পরিবেশন করেছে স্ক্রিনএক্সকোপ ও দেশিইভেন্টস। এবার তাদের এই আন্তর্জাতিক যাত্রায় সহযোগী অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিবেশক ও প্রযোজক আশরাফুল আলম রনি।
সিনেমাটির মুক্তি প্রসঙ্গে স্ক্রিনএক্সকোপের হেড অব অপারেশন্স ফয়সাল বাশার বলেন, “বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক বাজার এখন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ‘রইদ’ শুধু প্রবাসী বাঙালিদের নয়, ভিন্ন সংস্কৃতির দর্শকদেরও গভীরভাবে ছুঁয়ে যাবে।” অন্যদিকে দেশিইভেন্টস-এর সিইও সাঈদ ফয়েজ এবং পরিবেশক আশরাফুল আলম রনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে বাংলাদেশি গল্প বলার এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে এই চলচ্চিত্র। আগামী ৫ জুনের প্রদর্শনীর জন্য দেশিইভেন্টস ও স্ক্রিনএক্সকোপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অগ্রিম টিকিট বুকিং শুরু হয়েছে।

