যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার একটি বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি চাইছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো একে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে দাবি করছে। ফলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী জাহাজগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে এবং নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে।
এদিকে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ফিরতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলজাজিরাকে বলেন, চলমান উত্তেজনার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এটি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনেও পড়ছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় শেষ পর্যন্ত আমেরিকানদেরই বহন করতে হবে। তিনি পোস্টে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি গ্রাফও যুক্ত করেন।
আরাঘচির দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা এবং ঋণের সুদের হার বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। গাড়ির ঋণ খেলাপির হারও ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ব্যঙ্গ করে বলেন, “উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে একটি ‘অভিনয়ধর্মী যুদ্ধ’ চালানো হচ্ছে”, যা নতুন বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পাঁচ শতাংশ সুদে বিক্রি করেছে যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম। ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভ আরও সুদ বাড়াতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

