দেশে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসব বা নরমাল ডেলিভারির জন্য নতুন ওষুধ আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। একই সাথে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে জরুরি ভিত্তিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “মায়েদের নরমাল ডেলিভারির হার বাড়াতে দেশে নতুন ওষুধ এসেছে, যা লেবার পেইন বা প্রসব বেদনাকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিলম্বিত ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।” এই চিকিৎসাসেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের মেগা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নরমাল ডেলিভারি ও প্রসূতি সেবাকে গতিশীল করতে আমরা ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছি। উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য দেশবাসীকে কিছুটা ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আমরা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করব।”
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী ৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো প্রতিবন্ধী নাগরিক সরকারি ভাতার বাইরে থাকবে না। আগামী জুলাই মাস থেকেই নতুন করে প্রতিবন্ধীদের তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভাতার আওতায় আনা হবে। যাদের পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের দ্রুত নাম জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগী নারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রসাত্মক ও আন্তরিক ভঙ্গিতে বলেন, “নির্বাচনের আগে আমি বলেছিলাম, আপনাদের বেহেশতের টিকিট দিতে পারব না। তবে এমন ব্যবস্থা করে দেব, যা এই দুনিয়াতেই আল্লাহর রহমতে আপনাদের কল্যাণে আসবে। আমরা মা ও শিশুদের সুরক্ষায় তিনটি বিশেষ সুবিধা দিচ্ছি, যাতে আপনারা সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করে, সুখী মনে সন্তানদের লালন-পালন করতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।”
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আপনারা ১২ মাসে মোট ৩০ হাজার টাকা সরাসরি পাবেন। আমি কথা দিয়েছিলাম, টাকার জন্য আর জামাইয়ের (স্বামীর) কাছে হাত পাততে হবে না; বরং উল্টো জামাইরাই আপনাদের কাছে টাকা চাইবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।”

