যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে, তা জুলাইয়ের শুরুর দিক পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। কিন্তু শুরু থেকেই সেই আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেলআবিব।
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সীমান্তজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। লেবাননের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ৩ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৯ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ও মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন। কাতারভিত্তিক আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরান সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে এবং এমনভাবে সংঘাত শেষ করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতের জন্য অন্তত কিছু অর্থনৈতিক স্বস্তি ও টিকে থাকার সুযোগ পায়।
হ্যারিসনের ভাষায়, “ইরানের জন্য এটি শুধু সময়ের বিষয় নয়, বরং টিকে থাকার প্রশ্ন। তারা এমনভাবে সংঘাত থেকে বের হতে চায়, যাতে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতার কিছুটা পুনর্গঠন করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিরোধ কৌশল অতীতের তুলনায় ভিন্ন। আগে ইরান আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠী ও প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে পরোক্ষ প্রতিরোধ গড়ে তুলত। এখন তেহরান সরাসরি কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরই হ্যারিসনের এই বিশ্লেষণ সামনে আসে।

