মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করে যৌন কেলেঙ্কারি ও নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন কংগ্রেসের প্রভাবশালী দুই সদস্য। ডেমোক্রেট দলের এরিক সোয়ালওয়েল এবং রিপাবলিকান দলের টনি গঞ্জালেস মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে পদত্যাগ করায় কংগ্রেসের ফ্লোরে প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে অপমানজনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পান তারা।
প্রতিনিধি পরিষদের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, উভয় দলের নেতৃত্বই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল এবং বহিষ্কার প্রস্তাব আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আইনপ্রণেতা হিসেবে তাদের পদে থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ডেমোক্রেট প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল তার পদত্যাগপত্রে অতীতের কিছু “ভুল সিদ্ধান্তের” জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও তার বিরুদ্ধে আনা মূল অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে এক সাবেক স্টাফারকে যৌন হয়রানি এবং একাধিক নারীর সাথে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রতিনিধি টনি গঞ্জালেস এক স্টাফারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পর থেকেই তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে ছিলেন। পরবর্তীতে ওই স্টাফারের মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। একের পর এক নতুন অভিযোগ সামনে আসতে থাকলে তার নিজ দলের নেতারাই পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কংগ্রেসে একই সঙ্গে দুই দলের সদস্যের এভাবে পদত্যাগ করা একটি বিরল ঘটনা। বহিষ্কারের ভোট এড়াতে পারলেও, তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের স্পিকার অফিস থেকে জানানো হয়েছে, শূন্য হওয়া এই আসনগুলোতে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন প্রতিনিধি নিয়োগের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু করা হবে।

