যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা স্থায়ীভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক সংলাপ। তবে এই সংলাপ শুরুর আগেই ইরানকে নতুন হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা আলোচনার পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, সংলাপ চলাকালেও ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বহাল থাকবে। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, সেনা, গোলাবারুদ সবকিছুই বর্তমান অবস্থানে থাকবে এবং ইরানকে ঘিরেই অবস্থান করবে। তার দাবি, ইরান যদি একটি “সত্যিকার সমঝোতা চুক্তিতে” না পৌঁছায়, তাহলে এই সামরিক অবস্থান আরও দীর্ঘায়িত হবে।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি কোনো কারণে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় যা তার মতে খুবই অপ্রত্যাশিত তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করবে এবং সেই হামলা হবে “অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ব্যাপক, শক্তিশালী ও তীব্র।”
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং ইরানের ১০ দফা দাবি নিয়ে ইসলামাবাদে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম জানিয়েছেন, ইরানি প্রতিনিধি দল আজ রাতেই ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দেবে।
এই সংলাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আশাবাদ থাকলেও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

