লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা। ‘মুশতাক আহমেদ: ডিলিটেড বাই দ্য স্টেট’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা সভায় তারা বলেন, মুশতাক আহমেদের প্রতিবাদী চেতনা এবং মানবিক অবস্থান তাকে সমাজে স্মরণীয় করে রাখবে।
শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, দেশের রাজনীতি ও সমাজজীবনে মুশতাক আহমেদ একটি উজ্জ্বল নাম হয়ে থাকবেন। তিনি কারাগারে যে হেফাজতী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে আসে বলে মন্তব্য করেন।
গ্রন্থটির সংকলক ও সম্পাদক মনজুর হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বইটির গবেষণা ও সম্পাদনার কাজ করেছেন। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন, অসুস্থতার পরও একাধিকবার জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার ঘটনাগুলো বিচারব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
আলোচনা সভায় মুশতাক আহমেদের ভাই নাফিসুর রহমান বলেন, মুশতাক সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। কুমির সংরক্ষণ, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক বিষয়ে তিনি কাজ করেছেন। তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রতিবাদী মনোভাব, যা শেষ দিন পর্যন্ত অটুট ছিল।
মানবাধিকারকর্মী ছন্দা মাহবুব বলেন, ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এ বই একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মুশতাক আহমেদের মা জেবুন্নেসা রাজ্জাক, স্ত্রী মাসিয়া আক্তার, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

