মালদ্বীপে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে নিহত ৫ ইতালীয় নাগরিক

নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপে আনন্দভ্রমণ রূপ নিয়েছে বিষাদে। দেশটির ভাভু অ্যাটল (Vaavu Atoll) এলাকায় স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে পাঁচজন ইতালীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মালদ্বীপের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী (MNDF) এবং ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওই পাঁচ পর্যটক সমুদ্রের তলদেশের রহস্যময় পরিবেশ দেখতে ডাইভিংয়ে নামেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা পৃষ্ঠে ফিরে না আসায় জাহাজে থাকা কর্মীরা বিচলিত হয়ে ওঠেন এবং কোস্টগার্ড ও পুলিশকে খবর দেন। মালদ্বীপ সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, ডাইভাররা পানির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার গভীরে একটি গুহা অন্বেষণ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত একজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি চারজনও একই গুহায় আটকা পড়ে আছেন বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ওই এলাকার পানির অতিরিক্ত গভীরতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নামকরা সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপিকা, তাঁর মেয়ে এবং দুইজন গবেষক রয়েছেন। একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক ভ্রমণে এসে তাদের এই অকাল মৃত্যুতে জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় রাজধানী মালে থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণের ওই এলাকায় আবহাওয়া বেশ উত্তাল ছিল। আবহাওয়া দপ্তর থেকে ওই সময়ে মৎস্যজীবী ও সাধারণ নৌকার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। মালদ্বীপে ডাইভিংয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও, প্রতিকূল আবহাওয়ায় গভীর সমুদ্রের গুহায় প্রবেশের সিদ্ধান্তটিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

মালদ্বীপ পর্যটকদের জন্য নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডাইভিং সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে একজন অভিজ্ঞ ব্রিটিশ দম্পতি এবং তারও আগে এক জাপানি পর্যটকের মৃত্যু পর্যটন শিল্পে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির ইতিহাসে এই ঘটনাটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় স্কুবা ডাইভিং বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *