মুসলিম উম্মাহর কাছে জুমার দিনটি কেবল একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়, বরং এটি আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মহেন্দ্রক্ষণ। হাদিস শরিফে এই দিনটিকে ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নবীজি (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, জুমার দিনটি দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, কারণ এই দিনে মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
জুমার দিনের সওয়াব অর্জনে ইসলামের সুনির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে। প্রথমত, উত্তমরূপে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন এবং সুগন্ধি ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা। দ্বিতীয়ত, জুমার আজানের সাথে সাথে দ্রুত মসজিদে পৌঁছানো । রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, জুমার নামাজে যারা আগে পৌঁছান, তারা যথাক্রমে উট, গরু বা ভেড়া কোরবানির সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করেন। এছাড়া জুমার দিনে ‘সুরা কাহফ’ তেলাওয়াত করা মুমিনের জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে। জুমার দিনের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে যখন দোয়া কবুল হয়; অনেক আলেমের মতে যা আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়ে বেশি বেশি দরুদ পাঠ ও তওবা করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
যে ৫টি কাজ ভুলেও করা যাবে না: জুমার দিনের অশেষ সওয়াব অর্জনের পথে কিছু বাধা বা বর্জনীয় কাজ রয়েছে, যা মুমিনদের এড়িয়ে চলা জরুরি:
১. ইচ্ছাকৃত জুমা ত্যাগ করা: কোনো ওজর ছাড়া বা অলসতাবশত টানা তিনটি জুমা ত্যাগ করলে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তির হৃদয়ে মোহর মেরে দেন বলে হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
২. খুতবা চলাকালীন কথা বলা: ইমাম যখন খুতবা প্রদান করেন, তখন কথা বলা বা অন্যকে কথা বলতে নিষেধ করাও ‘অনর্থক কাজ’ হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি মোবাইল ফোন ব্যবহার বা অমনোযোগী থাকাও জুমার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৩. ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত থাকা: জুমার আজান হওয়ার পর ব্যবসা, অনলাইন কেনাকাটা বা দুনিয়াবি যেকোনো ব্যস্ততায় মগ্ন থাকা কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
৪. মসজিদে বিশৃঙ্খলা করা: উচ্চস্বরে কথা বলে অন্যদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো বা খুতবা চলাকালীন অযথা চলাফেরা করা জুমার আদব পরিপন্থী।
৫. তাড়াহুড়ো করে মসজিদ ত্যাগ: নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই আল্লাহর জিকির বা প্রয়োজনীয় দোয়া না করে দ্রুত মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়া অনুচিত। ইবাদত শেষে আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণে বের হওয়ার সময়ও অন্তরে তাঁর স্মরণ রাখা বাঞ্ছনীয়।
পরিশেষে, জুমার দিনের গুরুত্ব অনুধাবন করে সঠিক আমল ও বর্জনীয় বিষয়গুলো মেনে চলাই ইসলামের মূল শিক্ষা। এটি কেবল একটি প্রথা নয়, বরং মুমিনের ইমানি শক্তির নবায়নের দিন।

