প্রধান খবর

বিয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি যুবক নিহত

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার খান ইউনুস শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক হামলায় এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম মুহান্দ ওসমান ফারওয়ানেহ। অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিজের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন তথা পরিকল্পিত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান এই যুবক। ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ এবং ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পার্সটুডে এই খবর নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভোরের দিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহর লক্ষ্য করে তীব্র ও সমন্বিত হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় আকাশ থেকে অত্যাধুনিক কোয়াডকপ্টার ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং একই সঙ্গে স্থলভাগে ট্যাংকের গোলাবর্ষণ, কামানের গোলা ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। মূলত বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া একটি অস্থায়ী তাঁবুকে লক্ষ্য করে এই বর্বর হামলা চালানো হলে ঘটনাস্থলেই মুহান্দ ওসমানের মৃত্যু হয়। বিয়ের আনন্দ মূহুর্তেই রূপ নেয় শোকের মাতমে।

ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অভিযোগ, গত ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। চুক্তি অনুসারে গাজায় স্থায়ী শান্তি ও মানবিক সহায়তার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিসংখ্যান অনুসারে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর গত আট মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় প্রায় ৯৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৯৩০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্বের শর্ত ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাগুলো ক্রমাগত এড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া এবং গাজা উপত্যকায় জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী, মানবিক সহায়তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রবেশের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি করছে।

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর ও মানবেতর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েলের এই ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা গাজার সামগ্রিক পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও জটিল, অনিরাপদ ও ভয়াবহ করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *