নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী ,বিচারের আশ্বাস

রাজধানীর পল্লবীতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের সরকারপ্রধান। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীতে নিহত রামিসার বাসভবনে সশরীরে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শোকবিহ্বল মা-বাবার সাথে দীর্ঘ সময় কাটান, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্বনির্ধারিত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি রামিসার পরিবারের সাথে দেখা করতে পল্লবীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ ও শোকাচ্ছন্ন মা-বাবাকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের হাত থেকে পার পাবে না। দেশের প্রচলিত আইনে দ্রুততম ট্রায়ালের মাধ্যমে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকেলোমহর্ষক এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পল্লবীর ওই বাসার একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে প্রথমে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে প্রশাসন দ্রুত অ্যাকশনে নামে।

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ প্রথম দিকে এই ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশি হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে আদালতে তোলা হলে, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং সরাসরি নিহতের বাসায় গমনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা। তারা আশা প্রকাশ করছেন, খোদ সরকারপ্রধানের সরাসরি নজরদারির কারণে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *