মার্কিন সাংবাদিকতার অন্যতম দিকপাল, ওয়াশিংটন পোস্টের সাবেক সম্পাদক এবং তিনবারের পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক ড্যান এগেন আর নেই। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে নিজ বাসভবন থেকে ৬০ বছর বয়সী এই কীর্তিমান সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার আকস্মিক প্রয়াণের সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক স্ত্রী স্টিফানি আর্মার।
ড্যান এগেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ওয়াশিংটন পুলিশ তার বাসভবনে উপস্থিত হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ড্যান এগেন দীর্ঘ তিন দশক ধরে ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে সামনের সারিতে থেকে কাজ করেছেন। তার কলমে উঠে এসেছে হোয়াইট হাউস, মার্কিন কংগ্রেস এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা জটিল সমীকরণ। ১৯৯৭ সালে ওয়াশিংটন পোস্টে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি নিজেকে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও আপসহীন অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ সম্মান ‘পুলিৎজার’ জয়ী তিনটি বিশেষ প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা। তিনি ২০০২ সালে ৯/১১ হামলার নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ে করা তদন্তে পুলিৎজার জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং ২০২১ সালে ইউএস ক্যাপিটলে আক্রমণের ঘটনা অনুসন্ধানেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে ছাঁটাই হওয়া শতাধিক সাংবাদিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ড্যান এগেন। তবে সংবাদমাধ্যমের বর্তমান সংকটকালও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ‘নোটাস’ (The Star) নামক একটি নতুন সংবাদ সংস্থায় যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ড্যান এগেনের মৃত্যুতে মার্কিন সাংবাদিকতা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহকর্মীরা তাকে একজন ‘নিষ্ঠাবান শিক্ষক’ এবং ‘নির্ভীক সাংবাদিক’ হিসেবে স্মরণ করছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে দেওয়া শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, ড্যান এগেনের মতো সাংবাদিকদের অভাব পূরণ হওয়া প্রায় অসম্ভব; তার কাজ আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

