প্রধান খবর

ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে এয়ারবাস এ-৩৮০ ডাবল ডেকার এয়ারক্রাফট!

বর্তমানে এয়ারবাস এ-৩৮০ ডাবল ডেকার এয়ারক্রাফট বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ব্যয়বহুল এবং বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে বেশকিছু দেশে পরিচালিত হচ্ছে। এর বিশাল আকার, ডাবল ডেকার ডিজাইন এবং বিপুল যাত্রী ধারণক্ষমতার কারণে এটিকে “আকাশের দানব” বলা হয়।

তবে, বাণিজ্যিকভাবে প্রত্যাশিত মুনাফা না পাওয়ায় ইউরোপের এভিয়েশন জায়ান্ট এয়ারবাস কোম্পানি ২০২১ সালে এ-৩৮০ ডাবল ডেকার বিমানের উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। গত ২০০৩ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এয়ারবাস মোট ২৫৪টি বিভিন্ন সিরিজের এ–৩৮০ তৈরি করে, যার মধ্যে তিনটি ছিল প্রোটোটাইপ কপি।

এয়ারবাস এ-৩৮০ যাত্রীবাহী বিমানের প্রোডাকশন লাইন বন্ধ হয়ে গেলেও এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের মতো বেশকিছু আন্তর্জাতিক মানের এয়ারলাইন্স সংস্থা তাদের দীর্ঘ দূরত্বের রুটে এটি বিমান ব্যবহার করছে। যদিও বর্তমানে এর যন্ত্রাংশ প্রাপ্তি, মেরামত ও রক্ষাণাবেক্ষণ এখন যথেষ্ট ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে গেছে।

এয়ারবাস এ-৩৮০-৮৬১ মডেলে ডাবল ডেকার বিমানের চারটি শক্তিশালী Engine Alliance GP7200 টার্বোফ্যান ইঞ্জিন রয়েছে, যা দীর্ঘ রুটে জ্বালানি দক্ষতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় থ্রাস্ট উৎপন্ন করে। প্রায় ২,৯০০ থেকে ৩,০০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে ছাড়া এই বিমান নিরাপদে উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে পারে না।

বিমানটির সর্বোচ্চ রেঞ্জ প্রায় ১৪,৮০০ কিলোমিটার এবং সার্ভিস সিলিং ৪৩,১০০ ফুট। জ্বালানি ধারণক্ষমতা প্রায় ২,৫৩,৯৮৩ কেজি হওয়ায় এটি ননস্টপ আন্তমহাদেশীয় ভ্রমণের জন্য বিশেষ উপযোগী হয়ে থাকে। তবে, এর রক্ষাবেক্ষণ ও পরচালনা ব্যয় প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

যাত্রী বহন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে এয়ারবাস এ-৩৮০ যাত্রী পরিবহন বিমান বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে। এটি তিন-শ্রেণির কনফিগারেশনে মোট প্রায় ৫২৫ জন যাত্রী বহন করতে পারে এবং শুধু একক শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৮৫৩ জন যাত্রী বহন করার উপযোগী করে ডিজাইন ও তৈরি করা হয়েছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্ল্যাগশিপ এমিরেটস এয়ারলাইনস এয়ারবাস এ-৩৮০ ডাবল ডেকার জেট লাইনারের অন্যতম বড় ব্যবহারকারী এয়ারলাইন্স সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের বিমান বহরে মোট ১১৬টি এ–৩৮০ বিমান রয়েছে এর যার মধ্যে অপারেশনাল রয়েছে প্রায় ৯৪টি বিমান।

এর পাশাপাশি, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও কান্তাস এয়ারলাইন্স সীমিত সংখ্যক এ–৩৮০ পরিচালনা করছে। কাতার এয়ারওয়েজ সাম্প্রতিক সময়ে সাময়িকভাবে তাদের বিমান বহরে থাকা সকল এ–৩৮০ যাত্রীবাহী গ্রাউন্ডেড করলেও ভবিষ্যতে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করেছে।

পরিশেষে বলা যায় যে, গত ২০২১ সালে এয়ারবাস এ-৩৮০ ডাবল ডেকার যাত্রী পরিবহন বিমানের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও তা এখনো পর্যন্ত সীমিত পরিসরে বেশকিছু আন্তর্জাতিক রুটে নিরাপদে এবং গৌরবের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। তবে, আগামী ২০৩০ সালের পর এই লিজেন্ট এয়ারক্রাফটের আকাশে উড্ডয়ন ধীরে ধীরে হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *