বিদ্রোহে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সব সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দলীয় হাইকমান্ড জানায়, সার্বিক বিবেচনায় পশ্চিমবঙ্গের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সব শাখা, সহযোগী সংগঠন ও সাংগঠনিক কমিটি অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
দল জানায়, এখন থেকে সর্বস্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মক্ষমতার মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার একটি বিস্তৃত প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই মূল দলসহ সব শাখা ও সহযোগী সংগঠনের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা হবে এবং যথাসময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। তৃণমূলের বক্তব্য, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দলকে নতুন উদ্যমে পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
২০১১ সালে সিপিএমের ৩৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয় দলটি। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ৮০টিতে। ফল ঘোষণার পর থেকেই দলে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, উপনেতা হিসেবে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচেতক হিসেবে ফিরহাদ হাকিম ববির নাম প্রস্তাব করে হাইকমান্ড। এই সিদ্ধান্তের পরই দলে বিদ্রোহ শুরু হয়। বুধবার ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক নতুন বা আলাদা তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ঘোষণা দেন। তারা বিধানসভার স্পিকারের কাছে যে চিঠি জমা দিয়েছেন, সেখানে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শোভনদেবের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনোনীত করা হয়েছে। উপদলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহার নাম। মুখ্য সচেতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধায়কদের এই বিদ্রোহ দলের সর্বস্তরে ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় ঠেকাতেই তৃণমূল হাইকমান্ড সব কমিটি ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠনের পথে হাঁটল।

