প্রধান খবর

গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর

গাজা উপত্যকায় নিজেদের সামরিক আধিপত্য আরও বিস্তারের লক্ষ্যে এক আগ্রাসী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজা উপত্যকার অন্তত ৭০ শতাংশ অঞ্চল সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীকে (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) অধিকৃত পশ্চিম তীরে আয়োজিত এক সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ ঘোষণা দেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ওপর ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ দিন দিন আরও জোরদার করা হচ্ছে। নিজের রণকৌশল ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি, যা আগে ছিল ৫০ শতাংশ। এখন ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমার স্পষ্ট নির্দেশ হলো— প্রথমত গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, আমরা এটা দিয়েই আমাদের নতুন লক্ষ্য শুরু করতে চাই।” উল্লেখ্য, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত শ্রোতারা পুরো গাজা উপত্যকাই ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পক্ষে উগ্র স্লোগান দেন।

আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঠানো মানচিত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকেই গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা আইডিএফের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কূটনৈতিক ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইসরায়েলের এই নতুন দখলদারত্বের ফলে গাজার বিধ্বস্ত অঞ্চলের একটি অত্যন্ত ছোট্ট ও সংকীর্ণ অংশে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিককে অমানবিক ও ঠাসাঠাসি পরিবেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হবে।

এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা নামে পরিচিত একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা পর্যন্ত পিছু হটার কথা বলা হয়েছিল— যা গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকাজুড়ে অবস্থিত।

গত মঙ্গলবার হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সেই চুক্তির সীমারেখা জোরপূর্বক পরিবর্তনের অভিযোগ এনে এক কড়া বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি স্পষ্ট ও চলমান লঙ্ঘন। জোরপূর্বক নতুন বাস্তবতা তৈরি করার এই নগ্ন প্রচেষ্টা মূলত গাজায় স্থায়ী সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের যেকোনো বাস্তব সম্ভাবনাকে চিরতরে নস্যাৎ করার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *