ভারতের মহারাষ্ট্রে ‘নাসিক টিসিএস’ মামলাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং এআইএমআইএম-এর মধ্যে চলমান বাগযুদ্ধ এবার এক চরম ও বিতর্কিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজেপি বিধায়ক নীতেশ রাণে এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তুলনা করে দলটিকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
নাসিকের একটি টিসিএস অফিসে যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে অভিযুক্ত নিদা খানকে এআইএমআইএম-এর একজন কর্পোরেটর আশ্রয় দিয়েছেন—এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নীতেশ রাণে। তিনি দাবি করেন, “এআইএমআইএম কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। ওসামা বিন লাদেন এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল-কায়েদা যে ধরনের কাজ করত, বর্তমানে এআইএমআইএম সেই একই এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে।” তিনি ভারতের মাটিতে দলটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নীতেশ রাণের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এআইএমআইএম নেতারা এই মন্তব্যকে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ (Hate Speech) হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে মুসলিম নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।
বিরোধী দল কংগ্রেস এবং শিবসেনা (ইউবিটি) নীতেশ রাণের এই বক্তব্যকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের কাছে বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
পুরো বিতর্কের মূলে রয়েছে নাসিকের টিসিএস অফিসে ঘটা একটি অপরাধমূলক মামলা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এআইএমআইএম কর্পোরেটর মতিন মজিদ প্যাটেল প্রধান অভিযুক্ত নিদা খানকে আত্মগোপনে সাহায্য করেছেন। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস বলেন, “তদন্তে প্রাথমিকভাবে এআইএমআইএম কর্পোরেটরের ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী সকল দিক খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

