ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি আবারও এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির অবস্থান ফিরে পেয়েছেন। আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থানের ফলে একদিনেই তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের সঙ্গেও আদানি গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে ঝাড়খণ্ডের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা বহুল আলোচিত প্রতারণা-সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে সরে আসার পর তার ব্যবসায়িক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। এরপর থেকেই শেয়ারমূল্য দ্রুত বাড়তে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার সম্পদে যোগ হয় এক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
যদিও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসংক্রান্ত একটি ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক আলোচনায় ছিলেন, আদানি ও তার সহযোগীরা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সাম্প্রতিক শেয়ারবাজারের উত্থান তাকে আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর আসনে ফিরিয়ে এনেছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গৌতম আদানির মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৯২০ কোটি মার্কিন ডলারে। এতে তিনি ভারতের মুকেশ আম্বানি (৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার) এবং জাপানের প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী মাসায়োশি সনকে (৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলার) পেছনে ফেলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারমূল্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এই উত্থানের মূল কারণ। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জি-র শেয়ারের দাম একদিনেই প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বন্দর পরিচালনা, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। ফলে আদানি গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য পৌঁছেছে প্রায় ১৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে।
এই উত্থান শুধু আদানির ব্যক্তিগত সম্পদই বাড়ায়নি, বরং ভারতীয় শেয়ারবাজারেও নতুন গতি এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

