গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কেবল ভূখণ্ড দখলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাটিতে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার ও নিশ্চিহ্ন করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা ওসামা হামদান।
ওসামা হামদান বলেন, গাজায় ইসরায়েল এই গণহত্যামূলক যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে একটি ইচ্ছাকৃত ও সুনির্দিষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, তেল আবিবের মূল উদ্দেশ্য কেবল গাজা উপত্যকা দখল করা নয়, বরং সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের সামগ্রিক উপস্থিতি ও অধিকার চিরতরে শেষ করে দেওয়া। হামাস নেতার মতে, ইসরায়েলি পক্ষ ফিলিস্তিনিদের এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে-ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডের ভেতরে এই সংকটের কোনো রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক সমাধান নেই এবং তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প হলো এই মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া।
এমন চরম ও বৈরী পরিস্থিতির মুখেও হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন এই শীর্ষ নেতা। আত্মসমর্পণ বা আপসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “কোনো বিবেকবান মানুষই স্বাধীনতার পথ থেকে- তাতে যতই কষ্ট এবং মৃত্যু থাকুক না কেন—দাসত্ব ও অপমানের শৃঙ্খলের দিকে নিজেকে ঠেলে দিতে পারে না।” তিনি মন্তব্য করেন, চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনই ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষার জন্য “সর্বোত্তম সুরক্ষা”।
সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের এই নির্মম চাপ, অবরোধ ও অত্যাচার অব্যাহত থাকলে তা অঞ্চলে আবারও নতুন করে তীব্র সংঘাতের জন্ম দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওসামা হামদান। অতীতের একটি ঐতিহাসিক উপমা টেনে তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। হামদান সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি যদি এমন কোনো চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় যেখানে ফিলিস্তিনিদের ‘পেছনে সমুদ্র আর সামনে শত্রু’, তবে কেবল হামাস যোদ্ধারাই নয়, সাধারণ ফিলিস্তিনিরাও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় অস্ত্র তুলে নেবে এবং সম্মিলিতভাবে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামাস নেতার এই বক্তব্য বর্তমান যুদ্ধপরিস্থিতিতে সংগঠনটির কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ, যা গাজা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

