মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমাতে ইরান ও অন্যান্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতামূলক একটি চুক্তির কথা ভাবছে সৌদি আরব। এমন চুক্তি হলে এক দেশ অন্য দেশের ওপর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেবে। বৃহস্পতিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। দুই পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে সেই লক্ষ্যেই সৌদির এই উদ্যোগ।
কূটনীতিকরা জানান, সৌদি আরব ১৯৭০ সালের ‘হেলসিঙ্কি প্রক্রিয়া’র আদলে একটি আঞ্চলিক চুক্তির পরিকল্পনা করছে, যা ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবিশ্বাস কমাতে এমন একটি কাঠামো কার্যকর হতে পারে।
এক আরব কূটনীতিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ইরানসহ বেশিরভাগ আরব ও মুসলিম দেশ এই ধরনের চুক্তিকে স্বাগত জানাবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোন কোন দেশ এতে যুক্ত হবে সেটিই নির্ধারণ করবে চুক্তির সফলতা। তার মতে, ইসরায়েল ও ইরানকে একই চুক্তিতে আনা এখনই সম্ভব নয়, কিন্তু ইসরায়েলকে পুরোপুরি বাইরে রাখলেও সমস্যা তৈরি হবে, কারণ অঞ্চলের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ইসরায়েল।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিকভাবে ইরান সৌদি আরবের খুব কাছেই অবস্থান করছে। তাই সৌদি এখন এমন একটি চুক্তির ব্যাপারে বেশি আগ্রহী, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে পারে। ইউরোপের দেশগুলোও সৌদির এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, ইরানকে ‘আর কোনো হামলা হবে না’ এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে এই ধরনের আঞ্চলিক চুক্তি।
তবে এখনো স্পষ্ট নয়, কোন কোন দেশ এই সম্ভাব্য চুক্তিতে যোগ দেবে এবং বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে।

