মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় ‘আঙুল ট্রিগারে রেখেছে’। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো ‘টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা’ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে কূটনীতির পরিবেশ তৈরি করা।
মঙ্গলবার (১২ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে (IRNA) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোহাজেরানি ইরানের অটল অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৪০ দিন যুদ্ধ করেছি। আমাদের সেনারা এখনও সতর্ক অবস্থানে এবং ট্রিগারে আঙুল রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের অপেক্ষা করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান কোনো প্রকার সামরিক হুমকি বা চাপকে ভয় পায় না। তবে দেশটি অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তপাত এড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানজনক ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চায়।
সাক্ষাৎকারে মোহাজেরানি উল্লেখ করেন যে, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি তিনটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে— সম্মান, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা। তিনি জানান, ইরানের প্রয়াত নেতাদের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই তারা বর্তমান কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তেহরান মনে করে, শক্তির প্রদর্শনী নয় বরং যৌক্তিক কূটনীতিই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।
সম্প্রতি পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন খাদের কিনারায় পৌঁছেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ছক কষছে।

