প্রধান খবর

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় ৪০ দেশের জোটে অস্ট্রেলিয়া

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এক বিশাল আন্তর্জাতিক জোটে শামিল হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে এই ঐক্যবদ্ধ সামরিক ও কূটনৈতিক মিশনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বিশ্বনেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

এই বহুজাতিক মিশনে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে দেশটির বিমান বাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক ‘ই-সেভেন-এ ওয়েজটেইল’ (E-7A Wedgetail) নজরদারি বিমান মোতায়েন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বিমানটি আকাশপথে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে সমুদ্রসীমায় যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং জোটের নৌবাহিনীকে আগাম তথ্য দিতে সক্ষম। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে পরিচালিত এই মিশনটিকে একটি ‘স্বাধীন ও সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই জোটে যোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অস্থিরতা কেবল সামরিক সংকট নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক হুমকি। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই প্রণালীতে অচলাবস্থা যতদিন দীর্ঘায়িত হবে, অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তত গভীর হবে। ফলে সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে নৌ-চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাকে ক্যানবেরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, এই আন্তর্জাতিক জোটের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ইরান বা অন্য কোনো পক্ষের আক্রমণ থেকে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় আইনের শাসন বজায় রাখতে এই জোট কাজ করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মিলে তারা বৈশ্বিক জলপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সামরিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *