ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর বার্তা দিয়ে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই পোল্যান্ডে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তার এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। কারণ এর আগে প্রশাসন জানিয়েছিল, ইউরোপে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা কমানো হবে এবং প্রায় চার হাজার সেনাকে পোল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করে আসছে যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব যথেষ্ট নিচ্ছে না এবং ইরান যুদ্ধেও পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে সেনা কমানোর ঘোষণা থেকে হঠাৎ সেনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ন্যাটোর ভেতরেও প্রশ্ন তুলেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, পোল্যান্ডের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কির সফল নির্বাচনের পর এবং তার সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সেনা পাঠাবে। এই বার্তা প্রকাশের পরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ও পেন্টাগন জানিয়েছিল, অন্তত পাঁচ হাজার সেনা জার্মানি থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হয়েছে বলে মন্তব্য করার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ হাজারের চেয়েও বেশি সেনা কমাবে।
গত সপ্তাহ পর্যন্ত জানা যায়, মার্কিন সেনাবাহিনীর ২য় আর্মর্ড ব্রিগেড কমব্যাট টিমের প্রায় চার হাজার সদস্যের পোল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ইউরোপে সেনা সংখ্যা কমানোর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় প্রশিক্ষিত সেনাদের জার্মানিতে পাঠানোর পরিকল্পনাও স্থগিত করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা তাই শুধু ন্যাটো নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সামরিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সেনা কমানো নাকি বাড়ানো, কোনটি আসলে প্রশাসনের প্রকৃত নীতি। পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট, আর ইউরোপীয় মিত্ররা অপেক্ষায় আছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী বার্তার।

