চলমান সংকটের মধ্যেই গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রওয়াম্পারা শহরে বৃহস্পতিবার জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক ইবোলা রোগীর দাফন নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে পরিবারের সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসা সংস্থার তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। সংঘর্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬০০ ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩৯ জনের। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এবার যে ধরনটি ছড়িয়েছে বিরল বুন্ডিবুগইও স্ট্রেইন তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। মৃত্যুহার গড়ে ৪০ শতাংশ, আর কার্যকর টিকা তৈরি হতে সময় লাগতে পারে অন্তত নয় মাস।
প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র ইতুরি প্রদেশ থেকে সংক্রমণ এখন ছড়িয়ে পড়েছে গোমা শহর এবং সাউথ কিভু প্রদেশেও। এতে আরও বড় পরিসরে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মানবসম্পদের ঘাটতির কারণে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মাঠে থাকলেও স্থানীয় উত্তেজনা, ভুল তথ্য এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, নিরাপদ দাফন প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

