জাপানে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় অর্জন করেছে প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির সংসদের শক্তিশালী নিম্নকক্ষের মোট ৪৬৫টি আসনের মধ্যে এলডিপি ৩১৬টি আসনে বিজয়ী হয়, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে অনেক বেশি।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, এই জয়কে এলডিপির জন্য একটি ভূমিধস বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতিই তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জাপানের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে কিছুটা চাপে ছিল। রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনী প্রচারণায় করছাড় ও ভর্তুকির আশ্বাস দিয়ে তাকাইচি বিপুলসংখ্যক ভোটারের সমর্থন আদায় করেন। যদিও সমালোচকদের মতে, এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে জাপানের ধীরগতির অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে, টোকিওসহ বিভিন্ন শহরে টানা তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল। অনেক এলাকায় আগেভাগে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করতে হলেও প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ভোটারদের অংশগ্রহণে তেমন ভাটা পড়েনি। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা গেছে।

