লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা,নিহত ২ বাংলাদেশি

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের বলি হলেন আরও দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) স্থানীয় সময় দুপুরে নাবাতিয়ে জেলার যেব্দিন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

নিহত দুই বাংলাদেশিই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর এলাকার আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম। জীবিকার তাগিদে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমানো এই দুই যুবক সেখানে নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরায় তাদের নিজ গ্রামে শোকের মাতম চলছে।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম ‘লরিয়েন্ট টুডে’ এবং দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নাবাতিয়ের যেব্দিন এলাকায় একটি নির্দিষ্ট ভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার সময় শফিকুল ও নাহিদুল ওই ভবনে কাজ করছিলেন। অত্যন্ত শক্তিশালী এই বিস্ফোরণে ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে দুজনই বাংলাদেশি। এর আগে সোমবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও দূতাবাসের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন।

নিহত প্রবাসীদের মরদেহ বর্তমানে নাবাতিয়ের নাবিহ বেররি সরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান তীব্র হওয়ার পর থেকে সেখানে অবস্থানরত কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দিপালী বেগম নামে এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক প্রবাসীই বর্তমানে কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *