বর্তমানে সচল থাকা বিশ্বের দীর্ঘতম রেল টানেল হলো সুইজারল্যান্ডের গোথার্ড বেস টানেল (Gotthard Base Tunnel)। এই টানেলের মোট দৈর্ঘ্য হলো প্রায় ৫৭ কিলোমিটার।
তবে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের দীর্ঘতম রেলওয়ে টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি হবে খুব সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে নিউ ক্যাসেল পর্যন্ত প্রস্তাবিত এক দীর্ঘতম রেল টানেল প্রজেক্ট।
উচ্চগতির রেল প্রকল্পের আওতায় এই টানেলের দৈর্ঘ্য হতে পারে অবিশ্বাস্যভাবে প্রায় ৬৫ কিলমিটার (প্রস্তাবিত) এবং আর এই পুরো প্রজেক্ট বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হতে পারে হয়তো প্রায় ৫৫-৬০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
এই প্রস্তাবিত বিশ্বের দীর্ঘতম ভূগর্ভস্থ রেল টানেলে অত্যাধুনিক উচ্চ প্রযুক্তির ট্রেন প্রায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে যাবে, যা রেল যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় অর্জন হবে।
যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে নিউ ক্যাসেলের দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার পথ মাত্র ৬০ মিনিটেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে, বর্তমানে এই অতি উচ্চাভিলাষী রেলওয়ে টানেল প্রজেক্ট জরিপ ও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে।
এই উচ্চগতির রেল টানেল প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ শুরু হতে পারে আগামী ২০২৭ সালে এবং পরিকল্পনা মাফিক নির্মাণ শেষে সাধারণ যাত্রী ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে হয়তো ২০৪২ সালের মধ্যে।
এই উচ্চাভিলাষী এবং ফিউচারিস্টিক মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার সম্মানিত সরকার গত ২০২৪ সালের শুরুতে হাই-স্পিড রেল অথরিটি (HSRA) গঠন করে।
আর এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে জন্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার আগেই বরাদ্দ করেছে শুধুমাত্র পরিকল্পনা, গবেষণা, জরিপ ও করিডোর নির্ধারণের জন্য।
পরিশেষে বলা যায়, ভবিষ্যতে এই অতি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে, এটি শুধু অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নয়, বরং বিশ্বব্যাপী রেল টানেল প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

